ওয়ালেট পাস কী? এটা একটা ডিজিটাল কার্ড যা ফোনের বিল্ট-ইন ওয়ালেট অ্যাপে (Android-এ Google Wallet, iPhone-এ Apple Wallet) সেভ থাকে — লয়্যালটি কার্ড, কুপন, বোর্ডিং পাস বা টিকিটের মতো। আলাদা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করা লাগে না, একবার সেভ করলেই লক স্ক্রিনে বা ওয়ালেট অ্যাপে সবসময় হাতের কাছে থাকে।
বেশিরভাগ ওয়ালেট পাস প্রোগ্রাম সাইনআপের সময়ই কার্ড ইস্যু করে দেয়, তারপর অপেক্ষা করে যে কাস্টমার একদিন মনে করবে এটার কথা। যতক্ষণে তিনি সত্যি সত্যি দোকানে এসে দাঁড়ান, ততক্ষণে কার্ডটা এমন একটা ওয়ালেট অ্যাপের ভেতরে চাপা পড়ে গেছে যেটা তিনি সপ্তাহখানেক খোলেনইনি।
এর চেয়ে স্মার্ট একটা উপায় আছে: ট্রিগারটা উল্টে দিন। কাস্টমার যখন দোকানের রেঞ্জে ঢোকেন ঠিক তখনই পাসটা ইস্যু করুন, যাতে কেনার সিদ্ধান্তটা যখনও খোলা আছে ঠিক তখনই কার্ডটা লক স্ক্রিনে চলে আসে।
পুরো সেটআপটা Pushwoosh-এ একটাই কাস্টমার জার্নি: একটা জিওজোন এন্ট্রি, অফারসহ বেক-ইন করা একটা ওয়ালেট পাস, আর একটা পুশ নোটিফিকেশন যা কাস্টমার যে প্ল্যাটফর্মেই থাকুন না কেন তার হাতে কার্ডের লিংক তুলে দেয়।
কেন সাইনআপ ফর্ম নয়, লোকেশনে ট্রিগার করবেন
সাইনআপের সময় ইস্যু করা একটা ওয়ালেট পাস অনবোর্ডিংয়ের আর সব ধাপের সাথে প্রতিযোগিতা করে: পারমিশন প্রম্পট, প্রোফাইল ফিল্ড, একটা অ্যাপ ট্যুর যা কেউ শেষ করে না। বেশিরভাগ কাস্টমার কার্ড অ্যাড হওয়ার আগেই ট্যাব বন্ধ করে দেন।
অন্যদিকে, জিওজোন এন্ট্রিতে ইস্যু করা একটা পাস এই প্রতিযোগিতা এড়িয়ে যায়। কাস্টমার আর কার্ডের মাঝে কোনো ফর্ম থাকে না, আর অফারটা ঠিক সেই ৫ মিনিটের জন্য প্রাসঙ্গিক যখন তিনি কিনবেন কি না ভাবছেন — সপ্তাহখানেক আগে সাইনআপের সময় তার মুড কেমন ছিল তার জন্য নয়।
জিওজোন হলো একটা বাস্তব জায়গার চারপাশে আঁকা সার্কেল বা পলিগন আকৃতির একটা জিওফেন্স — একটা দোকান, একটা টার্মিনাল, একটা ভেন্যু। কয়েকটা জোনকে একটা ক্লাস্টারে গ্রুপ করুন, আর ক্লাস্টারের যেকোনো জোনে ঢোকা মাত্র একটা ইভেন্ট ফায়ার হয়, যা আপনার কাস্টমার জার্নি এন্ট্রি-ট্রিগার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
জিওফেন্সড ওয়ালেট পাস জার্নি কিভাবে বানাবেন
geo-triggered ওয়ালেট পাস জার্নি লঞ্চ করার আগে ২টা জিনিস দরকার: Apple এবং/অথবা Google-এর জন্য কানেক্ট করা একটা ওয়ালেট পাস টেমপ্লেট, আর আপনার লোকেশনগুলোর চারপাশে আঁকা একটা জিওজোন ক্লাস্টার। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ ইউজার Android-এ থাকায়, Google Wallet ব্রাঞ্চটাই বেশিরভাগ ট্রাফিক বহন করবে — তাই সেটআপে দুটো প্ল্যাটফর্মই রাখা জরুরি, তবে Google Wallet-কে প্রায়োরিটি দিন। দুটোই রেডি হলে, ৪টা সহজ ধাপে জার্নিটা বানানো যায়।
- 1
জিওজোন এন্ট্রি
একটা ডিভাইস ক্লাস্টারের যেকোনো জোনে ঢুকলেই এন্ট্রি ইভেন্ট ফায়ার হয় (যেমন
PW_GeozoneEntered)। এটাই জার্নির এন্ট্রি পয়েন্ট, তাই আলাদা করে কোনো লিস্ট বানানো বা ক্যাম্পেইন শিডিউল করার দরকার নেই। - 2
ওয়ালেট পাস ইস্যু করুন
জার্নি তখনই আপনার টেমপ্লেট থেকে একটা Apple বা Google Wallet পাস ইস্যু করে। ক্যাম্পেইন সেট করার সময় ফিল্ডগুলোর একটায় একটা লাইভ অফার বসান (যেমন একটা পার্সেন্টেজ ছাড়), আর এই রান-এ ইস্যু হওয়া প্রতিটা পাসেই সেটা বেক-ইন হয়ে যাবে। কাস্টমার কিছু ঠিক করার আগেই কার্ডটা তার ডিভাইসে চলে আসে।
- 3
প্ল্যাটফর্ম অনুযায়ী স্প্লিট করুন
একটা ফিল্টার চেক করে ডিভাইসটা iOS নাকি Android, আর সেই অনুযায়ী রুট করে। Apple ও Google পাস আসলে ভেতরে-ভেতরে আলাদা অবজেক্ট, তাই পরের পুশটা ঠিক পাসটাকেই পয়েন্ট করতে হবে।
- 4
পাস লিংক পাঠান
প্রতিটা ব্র্যাঞ্চ একটা পুশ পাঠায় যেটাতে থাকে সদ্য ইস্যু হওয়া পাস থেকে সরাসরি টেনে আনা ওয়ালেট পাস লিংক আর সিরিয়াল নম্বর, প্ল্যাটফর্ম অনুযায়ী পার্সোনালাইজড। এক ট্যাপেই কার্ডটা তার ওয়ালেটে চলে যায়।
প্রো টিপ: প্রতিটা ওয়ালেট টাইপের জন্য আলাদা পুশ টেমপ্লেট লাগে না। Android ব্র্যাঞ্চে issue-pass ধাপ থেকে google_save_link আর google_serial_number টেনে আনুন; iOS-এ apple_install_link আর apple_serial_number। প্ল্যাটফর্ম ফিল্টার আগেই তাদের আলাদা করে দিয়েছে বলে প্রতিটা ব্র্যাঞ্চের পুশ নিজে থেকেই সঠিক লিংক বহন করে।
জিওফেন্সড ওয়ালেট পাস কোথায় সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে
সবচেয়ে ভালো ফিট: রিটেইল, গ্রোসারি, আর QSR বা কফি শপ — যেখানেই কাস্টমারের দোকানের কাছাকাছি থাকাটা নিজেই একটা কেনার সিগন্যাল। “দোকানের কাছে” আর “হাতে অফার” — এই দুইয়ের মধ্যে লুপটা যত টাইট হবে, কনভার্শন তত ভালো হবে। ঢাকার বসুন্ধরা সিটি বা যমুনা ফিউচার পার্কের মতো মলে একটা ফ্ল্যাগশিপ স্টোর থাকলে, বা Shwapno-র মতো একটা সুপার শপ চেইন থাকলে, এই সেটআপ সরাসরি কাজে লাগে। যে অ্যাপের কোনো ফিজিক্যাল লোকেশন নেই, তার জন্য এটা দুর্বল ফিট।
আপনার ক্ষেত্রে যদি এটা প্রযোজ্য হয়, তাহলে কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখুন:
- রেডিয়াস গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো geo ক্যাম্পেইনের মতোই: খুব চওড়া হলে “দোকানের কাছে” কথাটার আর কোনো মানে থাকে না। পাস-ইস্যু ধাপ একই ডিভাইসে বারবার রিইস্যু আটকায়, কিন্তু যিনি রোজ পাশ দিয়ে হাঁটেন তিনি বারবার জোনে ঢুকতে পারেন। সহজ সমাধান: পাস ধাপে নয়, জিওজোন বা ক্লাস্টারে একটা কুলডাউন সেট করুন, যাতে এটা কতবার ফায়ার করবে তা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- যাদের কাছে আপনার অ্যাপ নেই, তাদের জন্যও কাজ করে। এটা আপনার অ্যাপের বদলে Apple বা Google Wallet-এ থাকে বলে, যারা কালেভদ্রে অ্যাপ খোলেন তাদের জন্যও অফারটা কাজ করতে থাকে। যারা কখনো অ্যাপ ইনস্টলই করেননি, তাদের কাছে পৌঁছাতে একই পাস লিংক বা QR কোড দিয়েও দিতে পারেন।
- কী কাজ করছে সেটা মাপুন। কোন লোকেশন আর কোন অফার আসলেই ভিজিট বাড়াচ্ছে তা দেখতে পাস সেভ আর ইন-স্টোর রিডেম্পশন ট্র্যাক করুন।
লোকেশনে ট্রিগার হওয়া একটা কুপন তো ওয়ালেট পাস যা বহন করতে পারে তার একটা মাত্র উদাহরণ। লয়্যালটি কার্ড, বোর্ডিং পাস, আর ইভেন্ট টিকিটের জন্য দেখুন ওয়ালেট পাস ইউজ-কেস গাইড।
Pushwoosh দিয়ে জিওফেন্সড ওয়ালেট পাস লঞ্চ করুন
আপনার অ্যাকাউন্টে যদি পুশ, ইমেইল বা ইন-অ্যাপ আগে থেকেই লাইভ থাকে, তাহলে এটা কোনো নতুন ইন্টিগ্রেশন নয়। জিওজোন, পাস, আর প্ল্যাটফর্ম-স্প্লিট পুশ — সবকিছুই একই কাস্টমার জার্নি বিল্ডার ক্যানভাসে বসে, একই User ID আর একই সেগমেন্টকে টার্গেট করে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ অ্যাপ Android-first, তাই একই সেটআপ শুরু থেকেই আপনার বেশিরভাগ ইউজারবেসের জন্য কাজ করে।
লোকেশনে ট্রিগার হওয়া আরও ক্যাম্পেইন ও ইউজ-কেসের জন্য দেখুন আমাদের জিওফেন্সিং মার্কেটিং প্লেবুক।
FAQ
google_save_link আর google_serial_number টেনে আনুন, iOS ব্র্যাঞ্চে apple_install_link আর apple_serial_number।